দু’বেলা আহারই যেখানে অনিশ্চিত, ঈদ সেখানে বিলাসিতা মাত্র

দুদিন বাদেই পবিত্র ঈদ-উল-আযহা, তবে আনন্দের ছিটেফোঁটাও নেই আামা'দের মাঝে। কারণ আমা'দের চারিদিকেই অথৈ পানি,

ঘরবাড়ি, মাছের পুকুর, রাস্তা-ঘাট ও ফসলের মাঠ সবকিছু ডুবে গেছে। দুবেলা পর্যা'প্ত খাবার নেই, থাকার মত জায়গাও নেই।

আর এসবের সাথে গবাদি পশু নিয়েও পড়েছি বিপাকে” কথাগু'লো বলছিলেন বন্যা কবলিত গাইবান্ধার রবিউল ইসলাম রবি।

রবি গো'পালগঞ্জের ব'ঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের(বশেমুরবিপ্রবি) ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী। শুধুমাত্র এই শিক্ষার্থী নয় বন্যা কবলিত বিভিন্ন জে'লার অন্যান্য শিক্ষার্থীদের
বক্তব্যেও ফুটে উঠেছে অ'ভিন্ন চিত্র। ঈদ মানে আনন্দ হলেও করো’না প্রকো'প আর আম্ফানের তাণ্ডবের পরে এই ভ'য়াবহ বন্যা তাদের ঈদের আনন্দকে ম্লান করে দিয়েছে।

সা'পের উপদ্রব এবং পানিবাহিত রোগের বি'ষয়ে উল্লেখ করে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে অধ্যয়নরত জামালপুরের শিক্ষার্থী শফিক কাজল বলেন,

আর্থিক ক্ষ'তির পাশাপাশি বন্যায় পানিবাহিত রোগও বাড়ছে। সেই সাথে দেখা দিচ্ছে সা'পের উপদ্রব। এমন পরিস্থিতিতে ঘুরে দাঁড়ানোই আমা'দের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।তাই এলাকাবাসীর ঈদ উদযাপনের মানসিকতা নেই।

নিরাপ'দ পানি সংকটের বি'ষয়টি উল্লেখ করে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগে অধ্যয়নরত মুন্সীগঞ্জের শিক্ষার্থী সালমান সারওয়ার বলেন, বন্যার পানিতে ডুবে গেছে আামা'দের চারপাশের গ্রামগু'লো।

ফসলের ক্ষেত ও গবাদি পশু মা'রাত্মকভাবে ক্ষ'তিগ্রস্ত হয়েছে। সেই সাথে দেখা দিয়েছে স্বাস্থ্য সমস্যা ও নিরাপ'দ পানির সংকট। তাই ঈদ উৎসবের উপলক্ষ হয়ে আসলেও নেই কোনো আনন্দ।

এছাড়া, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের মা'দারীপুরের আরেক শিক্ষার্থী প্রিতুল হোসাইন নদীভাঙন বৃ'দ্ধির বি'ষয়টি উল্লেখ করে বলেন,

পানি বৃ'দ্ধির সাথে দেখা দিচ্ছে নদী ভাঙন। প্রবল পানির গ্রাসে অনেক ঘরবাড়ি ভেঙে গেছে। ফলে অন্যবারের মত ঈদের খুশি আর কাজ করছে না।

উল্লেখ্য, উজানের টানা বৃষ্টির সাথে বিভিন্ন স্থানে ভারী বর্ষণ,সব মিলিয়ে অবনতি হচ্ছে দেশের বন্যা পরিস্থিতির। পানি উন্নয়ন বোর্ডে হিসাবে অন্তত ২৪জে'লা বন্যা কবলিত। এছাড়া প্রতিদিনই প্লাবিত হচ্ছে উত্তর, মধ্য ও পূর্বাঞ্চলের নতুন নতুন এলাকা।