ছাত্রলীগ আওয়ামী লীগের অঙ্গসংগঠন না: শেখ হাসিনা

যে দলেরই হোক বুয়েট ছাত্র আবরারের খু’নিদের সর্বোচ্চ শা’স্তি হবে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, প্রয়োজনে হলে হলে অ’ভিযান চালানো হবে। বিকেলে গণভবনে সাম্প্রতিক যুক্তরাষ্ট্র ও ভারত সফর নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরো বলেন, ছাত্র রাজনীতি নি'ষিদ্ধ করবে কি না সে বি'ষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোই সিদ্ধান্ত নেবে।

বুধবার (৯ অক্টোবর) বিকেলে সম্প্রতি শেষ হওয়া জাতিসংঘ অধিবেশন ও ভারত সফর নিয়ে সংবাদ সম্মেলন শুরু করেন প্রধানমন্ত্রী। গণভবনে এ সংবাদ সম্মেলনে ঘুরেফিরে প্রাধান্য পায় চলমান ইস্যু। আবরার হ’ত্যাকা’ণ্ড প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অ’প’রাধী যে দলেরই হোক ছাড় পাবে না।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, কে ছাত্রলীগ কে ছাত্রদল তা বিবেচনা করা হবে না। আমি কাউকে ছাড় দেব না। আমি বিবেচনা করেছি, অন্যায়ভাবে একটা বাচ্চা ছেলে তাকে হ’ত্যা করা হলো। তাও পি’টিয়ে পি’টিয়ে। কি অমানবিক! পোস্ট মোর্টেম রিপোর্ট দেখেছেন, তার বাইরে তত ইন’জুরি না, সব ইন’জুরি ভিতরে।

তিনি আরো বলেন, বুয়েটের শিক্ষার্থীদের আ’ন্দোলন চালানোয় বাধা নেই। নিরাপত্তা রক্ষায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী প্রস্তুত রয়েছে। তবে ছাত্র রাজনীতি বন্ধ করার দাবীকে অযৌক্তিক বলেন শেখ হাসিনা।

তিনি বলেন, আমাদের কোন দল সহযোগী সংগঠন, সেটা আমাদের গঠনতন্ত্র রয়েছে। কিন্তু কোনো অঙ্গ-সংগঠন আমাদের নেই। ছাত্রলীগ আওয়ামী লীগের অঙ্গসংগঠন না। ছাত্র-সংগঠন সমস্ত আলাদা সংঘটন, সেভাবে আছে। ছাত্ররাজনীতি নি'ষিদ্ধ হওয়ার কথা বলেছেন, এই দেশে প্রতিটি আ’ন্দোলন সংগ্রামে ছাত্ররাজনীতি অবদান রয়েছে। একটা স’ন্ত্রাসী ঘটনা ঘটেছে। অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছাত্ররাজনীতি নি'ষিদ্ধ রয়েছে। বুয়েট যদি মনে করে, তাহলে তারা নি'ষিদ্ধ করে দিতে পারে; এটা তাদের উপর।

তিনি আরো বলেন, কিন্তু ছাত্ররাজনীতি নি'ষিদ্ধ করে দিতে হবে, এটা মিলিটারি ডিকটেরদের কথা। তারাই এসে-তো পলিটিক্স ব্যান্ড, স্টুডেন্টস পলিটিক্স ব্যান্ড করে গেছেন। আমাদের দেশে নেতৃত্ব তৈরি হয়েছে ছাত্ররাজনীতি থেকে। আমি ছাত্ররাজনীতি করে এখানে এসেছি। এজন্য আম’রা দেশের জন্য কাজ করতে পারি। যারা উড়ে এসে বসে, তারা ক্ষমতাটাকে উপভোগ করতে আসে।

তাদের কাছে ওইধরনের চিন্তাভাবনা থাকে না। রাজনীতি একটা শিক্ষা ব্যাপার, ট্রেনিংয়ের ব্যাপার, এটা ছাত্ররাজনীতি থেকে গড়ে ওঠে। তার মন-মানসিকতা গড়ে উঠবে। কিন্তু আমাদের দেশে অ’সুবিধা হলো বার বার মিলিটারিরা ক্ষমতা এসেছে মানুষের চরিত্র হরণ করেছে, তাদের লো’ভী করে দিয়েছে। নানা ধরনের ভোগবিলাসের পথ দেখি গেছে। যেটা নষ্ট রাজনীতি হয়ে গেছে। সেখান থেকে ধীরে ধীরে ফিরিয়ে নিয়ে আসছি। একটা ঘটনা ঘটেছে বলে নি'ষিদ্ধ করতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, যদি কোন প্রতিষ্ঠান করতে চায়, সেটা করতে পারে। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়েরে স’ম্পর্কে একটা কথা বলতে চাই। একেকটা ছেলে-মেয়ে পিছনে, যারা পড়াশুনা করছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বলেন, বুয়েট বলেন তাদের স্বায়ত্তশাসনও দেওয়া আছে আবার খরচও সরকারকে বহন করতে হয়। এবং মোটা টাকা একেকটা ছাত্রে পিছনে কয়েক লক্ষ টাকা খরচ করতে হয়। সেই হিসাবটা কেউ করে না।